FreelancerStory.Com

ইন্টারনেটে কাজ করুন ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করুন

ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসঃ পিপল পার আওয়ার পর্বঃ ৪র্থ

Published On: January 18, 2014 Category: অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং,পিপল পার আওয়ার,ফ্রিল্যান্সিং, Comments Off on ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসঃ পিপল পার আওয়ার পর্বঃ ৪র্থ


অনলাইন মার্কেটপ্লেস পিপল পার আওয়ার সংক্ষেপে পিপিএইচের অদ্যপ্রান্ত নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের চতুর্থপর্বে সকলকে স্বাগত জানাই,আসুন আমরা বিগত পর্বে অনালোচিত বিষয়গুলি নিয়ে কিছু জেনে নিন,গত পর্বে আলোচিত মোট আটটিঅংশের বাদ-বাকি চারটি হচ্ছে,

ক. সেটিংস
. ওয়ার্কস্ট্রিম
গ. এন্ডোর্স, স্টার ও লাইক
ঘ. আওয়ার্লি

আমরা “আওয়ার্লি” নিয়ে পুরো একটি পৃথক পর্বে সবিস্তর আলোচনা করবো, তাই এই পর্বে শুধুমাত্র নিম্নক্ত তিনটি বিষয়ে আলোকপাত করা হবে,

 

সেটিংস

টপ নেভিগেশান বারের একেবারে ডান প্রান্তে আপনার প্রোফাইলের ছবি আছে, ওখানে ক্লিক করার পরেই একটি কালো বাক্স উদয় হবে, যেখানে আপনার প্রোফাইল কমপ্লিটনেস থেকে শুরু করে ড্যাশবোর্ড, পেমেন্টস ইত্যাদি লিঙ্ক সংযুক্ত করা থাকবে, পেমেন্টস লিঙ্কের নিচেই দাঁত-ওয়ালা চাঁকার একটি আইকন সমৃদ্ধ লিঙ্ক “Settings” দেখতে পাবেন, ওখানে ক্লিক করলে এমন একটি পাতায় পৌছাবেন যেখানে আপনার পিপিএইচ অ্যাকাউন্টের যাবতীয় কার্যকলাপ পরিচালনা করা হয়,Settings লেখার নীচে ধুসর রঙ্গে চারটি ট্যাবকরা লিঙ্ক রয়েছে দেখুন,General, Notifications, Payments, Privacy. জেনেরাল ট্যাবে ক্লিক করে আপনার পার্সোনাল URL এর ডান দিকে এডিট বোতাম আছে, এটি এডিট করে নিন, এতে করে আপনার নিজের পিপিএইচের একটি ইউ.আর.এল থাকবে, যেটা খুব গুরুত্বপূর্ন, আপনার নাম লিখে দিতে পারেন বক্সটিতে। বাদ বাকি অংশগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ন নয়, আপনার পাসওয়ার্ড ও ইমেইল আই.ডি এখানেই পরিবর্তন করতে পারবেন।
 
Notifications এ ক্লিক করে আপনাকে কি কি বার্তা পিপিএচ ইমেইল আকারে জানিয়ে দিবে তা স্লাইডারের মাধ্যমে পরিবর্তন করে নিতে পারেন, আমি যেমন আছে, তেমনই রাখি।

 
Payments সেকশান গুরুত্বপূর্ন, আপনার ব্যাংকের ডিটেইলস এখানে দিতে হবে, কাজ করার পরে বায়ার আপনাকে টাকা প্রথমে Wallet এ পাঠাবে, সেই ওয়ালেট থেকে টাকা উইথড্র দেবার পরে আপনি এখানে উল্লেখ করা ব্যাংকে তা ট্রান্সফার করতে পারেন অনায়াসেই।
 Privacy দিয়ে আপনি যা কাজ করছেন তা সবাইকে জানাবেন কি না তা নির্ধারণ করতে পারেন।

 

ওয়ার্কস্ট্রিম

ওয়ার্কস্ট্রিমএ আপনি আপনার বায়ারের সাথে কথা বলার সুযোগ পাবেন,সব কিছু হিস্টোরি আকারে সেইভ করা থাকবে,আপনাকে আপনার বায়ার যদি কোনো মেসেজের উত্তর দিয়ে থাকে তা ওয়ার্কস্ট্রিমই প্রদর্শন করবে,অনেকটা ফেইসবুকের মতো কমেন্টের পিঠে কমেন্ট। তবে ওয়ার্কস্ট্রিমআরো অনেক কিছু করতে পারে। যেমন ইনভয়েজ রেইজ করতে হলে তা WorkStreamএই করতে হবে,পাতার বাম দিকে আপনার প্রোফাইলের ছবির পাশে NOW লেখা থাকবে,ওখানে খেয়াল করুন ধুসর রঙের উইজেড দেয়া আছে,উইজেডে Send Message, New Proposal, Raise Invoice, Request Deposit আর Issue Refund অপশন দেয়া আছে।

 

প্রতিটায় ক্লিক করলে দেখতে পাবেন ভিন্ন ভিন্ন বক্স অ্যাড হচ্ছে WorkStream এর নিচে,একেকটির এক এক অপশন,আসুন দেখি,

 

ম্যাসেজঃ

এটি শুধুমাত্র আপনার বায়ারের সাথে আলাপ করবার জন্য ব্যাবহার করুন,একেবারে সহজ বাংলায় কথাবার্তার জন্য ব্যভার করা হয়,এখানে আপনি লিঙ্ক পেস্ট করতে পারবেন,তবে ছবি বা ভিডিও না।

 

নিউ প্রোপোজালঃ
প্রোপোজাল আওয়ার্লি বা ফিক্সট দুটাতেই করা সম্ভব,কাজের প্রস্তাবনা যদি থাকে তখন তা ফর্মাল আকারে আপনি ক্লায়েন্টকে দিতে পারেন,যাতে দাপ্তরিক স্বার্থে দুই পক্ষই পরিস্কার থাকেন।

 

প্রোপোজালে ক্লিক করার পর উপরেই বক্স দেখবেন,ওখানে টাইপ করুন,কি প্রস্তাব দিচ্ছেন আপনার ক্লায়েন্টকে,মাথায় রাখুন, ফর্মালি ব্যাপারটা লিখতে হবে আর আপনার বায়ারেরঅফারকৃত কাজের বিবরনীর উপর নির্ভর করে প্রোপোজাল বড় কিংবা ছোট হবে,তবে শর্ট আর সিম্পলের বিকল্প নেই

 

এবার নীচেই দেখুন ড্রপডাউন বক্স আছে,ওখানে ফিক্সেড,পার আওয়ার বা অ্যাড নিউ আছে,এখানে আপনি ঘন্টাপ্রতি নাকি নিজের মতো ফিক্স প্রাইজে প্রতাবটি দিচ্ছে তা বুঝিয়ে দিবেন।
প্রোপোজালের আইটেম একাধিক করা যায়,প্রতিবার আইটেম যুক্ত করলে তার মূল্য ডান পাশের বক্সে উল্লেখ করে দিতে পারবেন।

 

নিচেই ডিপোজিট বক্স আছে,সেখানে আপনি যদি আপ-ফ্রন্ট পেমেন্ট অর্থাৎ কাজের আগেই বায়ারকে চার্জ করতে চান তবে তাও করতে পারেন।

 

রেইজ ইনভয়েজঃ
ইনভয়েজ রেইজ তখনি করবেন যখন ক্লায়েন্টের দেয়া কাজ করা হয়ে গিয়েছে,মূলত নিউ প্রোপোজাল আর রেইজ ইনভয়েজ একই,তবে রেইজ ইনভয়েজ করতেই হবে যদি না কি আপনি বায়ারের পেমেন্ট রিসিভ করতে চান,মনে রাখবেন,আপনার পেমেন্ট সেটিং ঠিক থাকতে হবে,পেপল বা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট যোগ করা থাকলে তবেই আপনি ইনভয়েজ রেইজ করতে পারবেন।
প্রতিবার কাজ শেষ করে বিল করবেন রেইজ ইনভয়েজের মাধ্যমে,এখানে ডেস্ক্রিপশানে উল্লেখ করবেন কি কাজ করেছেন,যেমন লিগাল রাইটার লিখতে পারেন, Added 3 new Clauses এখন সেটার জন্য কি পরিমান চার্জ করবেন তা উল্লেখ করবেন।

 

রেইজ ইনভয়েজের টাইম পিরিয়ড খুব গুরুত্বপূর্ন অংশ, পিপিএইচের টি অ্যান্ড সি (টার্মস আর কন্ডিশান) অনুসারে প্রতিটি বায়ারকে আপনার ইনভয়েজ রেইজের ৭ দিনের মাথায় পেমেন্ট করতে হবে, নাহলে তার ক্রেডিট কার্ড তথা এস্ক্রো ডিপোজিট থেকে আপনার ওয়ালেটে নিজে থেকেই টাকা চলে আসবে।

 

তাই যেদিন কাজ শেষ হবে তা জমা দেবার পরেই উল্লেখ করুন টাইম পিরিয়ডে যে কবে কাজ শেষ করলেন।

 

রিকোয়েস্ট ডিপোজিটঃ
এটা অনেকটা চুক্তির মতো,বায়ার যেই কাজ চেয়েছে সেটার জন্য আপনি পারিশ্রমিক কতটা নেবেন তাই সংখ্যায় উল্লেখ করে দিতে হবে,তবে ডিপোজিট রিকোয়েস্ট করলেই হবে না,ডিপোজিট করার পরে কাজ শেষ করে আপনাকে ইনভয়েজ রেইজ করতে হবে,অফিশিয়ালি টাকা আপনার ওয়ালেটে নিতে হলে।
ইস্যু রিফান্ডঃ
কোনো কারনেযদি বায়ার ডিপোজিট করার পরেও কাজটি আপনি না করার সিদ্ধান্ত নেন,তবে আপনি রিফান্ড করে দিতে পারেন এই মেনু থেকে,আর এর জন্য উল্লেখ করতে হবে কি কারনে রিফান্ড করছেন,ড্রপডাউন বক্স থেকে।
পারত পক্ষে এই মেনু ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকবেন, এর ব্যাবহারে আপনার স্কোর রেটিং কমে যাবার সম্ভবনা রয়েছে।
আপনার ক্লায়েন্টের পেমেন্ট অ্যাপ্রুভ হলেও তা প্রদর্শিত হবে ওয়ার্কস্ট্রিমে, আপনার ক্লায়েন্টকে ফীডব্যাক দিতে হবে এই ওয়ার্কস্ট্রিমে, ক্লায়েন্টের দেয়া ফীডব্যাকও প্রদর্শিত হবে এই ওয়ার্কস্ট্রিমে।

 

মোট কথা একটি বায়ারের জব, একটি WorkStream, আর সবকিছু ওখানেই, অযথাছোটাছুটি করতে হবে না, সব পাবেন একখানেই।

 

এন্ডোর্স, স্টার ও লাইক

 

পিপিএইচে বায়ার সেলারের সার্ভিস রেটিং বা র‍্যাঙ্ক করার একটি প্রথা হচ্ছে এন্ডোর্স আরেকটি স্টার, আপনি পিপিএইচে অ্যাকাউন্ট খোলার পরেই অন্য পিপিএইচারদের, তা হোক বায়ার বা সেলার, স্টার দিতে পারবেন। স্টার দিলে বোঝা যাবে সেই সার্ভিস বা অফারকৃত কাজটির মান উন্নত, আর পিপিএইচের জব ডেটাবেজে তা শো করবে উপরের দিকে, অর্থাৎ অধিক স্টার যুক্ত আওয়ার্লি বা বায়ারের অফারকৃত জব, রোজ প্রকাশিত কাজের তালিকায় অগ্রগন্য লাভ করবে।
এন্ডোর্সমেন্ট হলো এমন একটি প্রথা যার প্রাপ্তির মাধ্যমে আপনি অনেক বায়ারের মনযোগ আকর্ষন করতে পারবেন, এন্ডোর্স আপনাকে যে কেউ করতে পারবে, অনলাইনেই যে তাকে থাকতে হবে তা নয়, হতে পারে আপনার কলিগ, বন্ধু কিংবা আত্মীয়, যে কেউ পারবে আপনার কাজের সম্পর্কে দুএক লাইন লিখে দিতে।

 

এন্ডোর্স মানে পাব্লিকলি বা জনসম্মুখে অ্যাপ্রুভাল দেয়া, একনলেজ করা, এটা ফীডব্যাক নয়, তাই বাংলাদেশি ফ্রীল্যান্সার ভাই-বোনেরা এন্ডোর্স করুক কি বাইরের দেশের হোমড়া চোমড়া বায়ার রা, আপনাকে একনলেজ করছে এটাই মূল বিষয়।

 

এন্ডোর্স খুব গুরুত্বপূর্ন যদি আপনি নতুন সেলার হয়ে থাকেন, আপনার তেমন কাজের অভিজ্ঞতা যদি না থাকে ব্যাপার না, এই এন্ডোর্সমেন্ট আপনাকে লাইম লাইটে তুলে আনবে, আর যদি আপনি নতুনই হয়ে থাকেন তবে এন্ডোর্স করবে আপনার সতির্থরা, কলিগরা বা আত্মীয় স্বজনেরা

 

এন্ডোর্স করতে হলে সেলারের পিপিএইচ প্রোফাইলের পার্মালিঙ্কে যেতে হবে, যেখানে তার প্রোফাইল প্রদর্শিত হবে, সেখানে তার আওয়ার্লির লিস্ট থাকতে পারে, নীচের অংশেই কমলা বোতামে Endorse লেখা দেখা যাবে, সেখানে ক্লিক করলেই সেলারকে এন্ডোর্স করা সম্ভব হবে।

 

যেকোনো সেলারের অফারকৃত আওয়ার্লি আপনি লাইক করতে পারেন তা ফেসবুকের মাধম্যে লাইক পেয়ে যাবে, এই ক্ষেত্রে আপনার ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট থাকা বাঞ্চনীয়।

 

এই ছিলো আজকের পর্ব, আগামী পর্বে শুধুমাত্র পিপিএইচের আওয়ার্লি নিয়ে সবিস্তর আলোচনা করা হবে, পড়বার আমন্ত্রণ রইলো।
 

 

 লেখকঃ শোয়েব মোহাম্মাদ

পোস্টটি শেয়ার করূন, অন্যজনকে জানতে দিন

Comments are closed.