ওয়েবসাইট ডিজাইনিং – পেশা হিসেবে অসাধারণ

website-desingning

আমি মূলত একজন ওয়েবসাইট প্রোগ্রামার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের ডিজাইন বা টেম্পলেট, ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পেয়ে থাকি। একটি টেম্পলেটের সাথে প্রোগ্রামিংকে যুক্ত করার জন্য প্রায় সময় ফটোশপের স্লাইসিং টুল নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে হয়। সেই সুবাদে ফটোশপ একটু আধটু জানি। যেসব ক্লায়েন্টের কাছ থেকে টেম্পলেট পাওয়া যায় না তাদের সান্ত্বনা দেবার জন্য মাঝে মধ্যে নিজেই টেম্পলেট তৈরি করা শুরু করে দেই। এতে বেশিরভাগ সময় কাজ হয়। তবে সত্যি বলতে কি ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এর প্রতি আমার এক ধরনের ঝোঁক সবসময় রয়েছে। কাজের চাপে খুব একটা সময় দিতে পারি না, তবে সুযোগ পেলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এর সাইটে ঘোরাঘুরি করি।

একটা বিষয় আমি খেয়াল করে দেখলাম, আমাদের দেশে যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য থাকে ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে বেশি মাথা অল্প খাটিয়ে কম কষ্টে আয় করা। প্রকৃতপক্ষে একটি ডাটা এন্ট্রির কাজ পাওয়া যে কতটা কঠিন তা আমার অজানা নয়। এক একটি প্রজেক্টে ১০০ জনের উপর বিড করে। তার উপরে এই ধরনের কাজ খুবই বিরক্তিকর এবং কষ্টের তুলনায় আয় অত্যন্ত কম। সর্বোপরি এধরনের কাজে সৃজনশীলতার ছিঁটেফোটাও নেই।

আমি জানি, অনেকেই বলবেন সবাইতো আর প্রোগ্রামার হতে পারবেন না। একজন দক্ষ প্রোগ্রামার হবার জন্য কম্পিউটার সায়েন্স বা এই ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ বা সময় অনেকেরই থাকবে না। তাহলে একজন নন-টেকনিকাল ব্যক্তি কি একজন প্রোগ্রামারের সমান বা তার চেয়ে বেশি আয় করতে পারবে না? আমি বলব, অবশ্যই পারবেন। এই বিষয়ে আমি আমার সাইটে বিভিন্ন লেখায় বিভিন্নভাবে উল্লেখ বলেছি। কিন্তু আমার মনে হয় ব্যাপারটা বেশিরভাগ নতুন ফ্রিল্যান্সাররাই খেয়াল করেন না, অথবা সেই বিষয়ে আগ্রহ পান না।

কোন সেই বিষয়? ওয়েবসাইট ডিজাইনিং। তবে শুরুতেই বলে নেই, এই পেশায় প্রথম অবস্থায় যথেষ্ঠ শ্রম দিতে হবে এবং অবশ্যই নতুন কিছু উদ্ভাবন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এই দুই ক্ষমতা থাকলে আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এ আপনি ভাল করতে পারবেন। ঘরে বসে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টাতেই ডিজাইনিং শেখা সম্ভব। Photoshop Tutorial লিখে গুগলে সার্চ দিলে হাজারটা ওয়েবসাইট পাবেন। ধৈর্য্য ধরে শিখতে পারলে কখনও কাজের অভাব হবে না।

ধরা যাক আপনি কয়েক মাস চেষ্টার ফলে একজন দক্ষ ডিজাইনার হতে পেরেছেন। এখন আপনার ডিজাইন কিনবে কে? এর উত্তর হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সাইটগুলো। কষ্ট করে ওইসব সাইটে বিড করা শুরু করে দিন। আশা করি খুব শীঘ্রি আপনি বিড জিততে পারবেন।

আর যদি বিড করে কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে থাকেন, তাহলেও নিরাশ হবেন না। আজ আমি আপনাদেরকে একটি ওয়েবসাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব যেখানে কোন বিড করতে হয় না। যেখানে ক্লায়েন্টের কোন চাহিদা নেই। আপনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছে মত কাজ করে যাবেন আর অনবরত আয় হতে থাকবে। সাইটি হচ্ছে – GraphicRiver.net

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই সাইটে আপনাকে সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটের টেম্পলেট তৈরি করতে হবে না। একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় গ্রাফিক্স যেমন বাটন, ব্যানার, বিভিন্ন ধরনের টেবিল, ব্যাকগ্রাউন্ড ইত্যাদি তৈরি করে জমা দিতে পারবেন। ডিজাইন জমা দেবার পর ওয়েবসাইটের কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখবে আপনার ডিজাইনটি মানসম্মত অথবা অন্য কারো ডিজাইন অনুকরণ করে তৈরি করা হয়েছে কিনা। যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হলে তারাই ডিজাইনটির একটি মূল্য নির্ধারণ করে দিবে যা ১ ডলার থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে প্রথম অবস্থায় ৪০% অর্থ ডিজাইনারকে দেয়া হবে।

মূল্য শুনে মন খারাপ করবেন না, আসল কথা এখনও বলা হয় নি। এই সাইটি একটি অনলাইন শপ বা ইকমার্স সাইটের মত। অর্থাৎ একটি ডিজাইন একের অধিক ক্লায়েন্ট কিনতে পারে। এক একটি ভাল ডিজাইন গড়ে ৫০ বার বা তার চেয়ে বিক্রি হয়। আর সময়ের সাথে বিক্রি বাড়তেই থাকে। ধরা যাক, আপনার তৈরিকৃত একটি ব্যানারের মূল্য ১ ডলার নির্ধারণ করা হল অর্থাৎ প্রতিবার বিক্রি হলে আপনি পাবেন ০.৪০ ডলার। একটি ব্যানার তৈরি করতে ১ দিনের বেশি লাগার কথা নয়। তাহলে মাসে যদি ৫০ বার ব্যানারটি বিক্রি হয় তাহলে ওই ১ দিনের কাজের জন্য আপনি মাসে আয় করছেন ২০ ডলার। এভাবে প্রতিদিন যদি অন্তত একটি ভাল ডিজাইন তৈরি করতে পারেন তাহলে বিষয়টা দাড়াচ্ছে ৩০x২০=৬০০ ডলার। আমি কি বেশি বলে ফেললাম !!!

ঠিক আছে, তাহলে আমি নিজেই তা পরীক্ষা করে দেখি। চলুন দেখা যাক আমি কিছু বিক্রি করতে পারি কি না। আজকে (১৭ আগস্ট ২০০৯ তারিখে) আমি একটি ডিজাইন “গ্রাফিক রিভার” সাইটে জমা দিয়েছি। এটি একটি মূল্য তালিকা প্রদর্শন করার টেবিল। তৈরি করতে আমার মত অদক্ষ ডিজাইনারের বিকেল থেকে রাত অবধি সময় লেগেছে। সাইটের কর্তৃপক্ষ ডিজাইনটির জন্য ১ ডলার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমার প্রথম ডিজাইনটি যে তারা গ্রহণ করেছে তাতেই আমি খুশি। নিচের লিংক থেকে আমার কাজটি দেখতে পাবেন –
http://graphicriver.net/item/web-pricing-table/54601?ref=EcologyTheme

চলুন দেখা যাক, ডিজাইনটি শেষ পর্যন্ত কতবার বিক্রি হয়।

লেখক – মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী

16 thoughts on “ওয়েবসাইট ডিজাইনিং – পেশা হিসেবে অসাধারণ

  1. ভাইয়া sitegrinder (http://www.medialab.com/sitegrinder/overview.php) নামের একটা সফটওয়্যার আছে যা নাকি ফোটশপের PSD File কে CSS/HTML এ Convert করে ওয়েব সাইট বানাতে পারে।এ ধরনেরসফটওয়্যারগুলো কি সত্যি কাজের?

  2. "ঠিক আছে, তাহলে আমি নিজেই তা পরীক্ষা করে দেখি। চলুন দেখা যাক আমি কিছু বিক্রি করতে পারি কি না। আজকে (১৭ আগস্ট ২০০৯ তারিখে) আমি একটি ডিজাইন "গ্রাফিক রিভার" সাইটে জমা দিয়েছি।"

    বস সর্বশেষ কত বার বিক্রি হল ও $$ পরিমান কত?

  3. এ পর্যন্ত ডিজাইনটি ৩৩ বার বিক্রি হয়েছে এবং এ থেকে আমি ১৬ ডলার আয় করেছি।

    আমার আরেকটি টেম্পলেট ২৯ বার বিক্রি হয়েছে এবং সেটি থেকে আমি এ পর্যন্ত ১২৮ ডলার আয় করেছি।

  4. ভাইয়া আমি যদি ফটোসপ ছারা অন্য কোন Software দিয়ে কাজগুলো করি তাহলে কি হবে?

  5. এই সাইটে ফটোশপ অথবা ইল্যাস্ট্রেটর দিয়ে কাজগুলো করতে পারবেন, অন্য কোন সফটওয়্যার দিয়ে নয়।

  6. পুরো প্রক্রিয়াটি যদি ব্যাখ্যা দিতেন() তা হলে আমরাও চেষ্টা করতাম…….
    ফটোশপ অথবা ইল্যাস্ট্রেটর দুটোই জানা আছে…….

  7. জাকারিয়া ভাই,

    ব্লগিং বা এডসেন্স এর পাশাপাশি সাম্প্রতি ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার জন্য বিভিন্ন গ্রাফিক সফটওয়্যার এর কাজ শিখছি। ল্যাপটপ/মনিটরের LCD ডিসপ্লে নিয়ে দারুন সমস্যায় পরতে হচ্ছে। বিশেষ করে ল্যাপটপের মনিটর উঠানো নামানোর ফলে কালারে তারতম্য হচ্ছে । অন্যদিকে LCD মনিটরের আউটপুটের সাথে CRT মনিটরের আউটপুট ম্যাচ হচ্ছে না। বিষয়টার অটোমেটিক কোন সমাধান আছে? উল্লেখ্য আমি উইন্ডোজ XP ব্যবহার করছি…আর সফটওয়্যারগুলো এডোবি CS5 গ্রুপের…

  8. মনিটরকে যথাসম্ভব চোখের/মাথার সমান্তরালে রেখে কাজ করার চেষ্টা করুন। আমার মতে গ্রাফিক্সের কাজের জন্য LCD মনিটর হচ্ছে আদর্শ। তাই CRT মনিটর পরিহার করার চেষ্টা করুন।

  9. জাকারিয়া ভাই LCD মনিটর কি CRT মনিটর এর মতো ১০০% একুরেট কালার শো করে?ল্যাপটপের ক্ষেত্রে কিন্তু অনেক অসুবিধা হয়। আমার মনে হয় LCD ল্যাপটপ যতটুকু পিছনে টানটান করে রাখা যায় সেটাই বেটার।নইলে মনিটরের অবস্থানের সামনে পিছনের কারনে ব্রাইটনেস ডিফার করে। এছাড়া কালার ম্যানেজমেন্ট এ গিয়ে Adobergb1998 সিলেক্ট করলে কি কোন বাড়তি লাভ হবে?

  10. boss! graphikriver er uploading system ta details vabe bolle upokar anek hoto, ami 20 bar upload diesi, but amar ta eccept hoi nai,

  11. জাকারিয়া ভাইয়া আর্টিকেল টা অসাধারন হয়েছে। দেখি আমি এটা ডিজাইন আজই আপলোড করব।

Comments are closed.

সার্চ করুন

জনপ্রিয় লেখাসমূহ

Find us on facebook

Scroll to top