FreelancerStory.Com

ইন্টারনেটে কাজ করুন ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করুন

পেইজাঃ অনলাইনে অর্থ উত্তলনের সহজ উপায়

Published On: February 4, 2017 Category: অর্থ উত্তোলন, 2 Comments

পেইজাঃ অনলাইনে অর্থ উত্তলনের সহজ উপায়

আধুনিক ই-বানিজ্যের যুগে ইন্টারনেটে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সহজতা ও নিরাপত্তা ক্রমশঃ গ্রুরুতবপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন লেনদেন মাধ্যমে ঝুকিপূর্ন অর্থ আদান-প্রদানের ফলে অনাকাংক্ষিত প্রতারণা ও ভোগান্তির ঘটনায় বিষয়টি আরো গভীর বিবেচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। যদিও অনলাইনে কেনাকাটা, মুদ্রার বিনিময় এবং অন্যান্য প্রয়োজনে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের বিশবততা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে, তবুও ট্রান্সফার চার্জ, আঞ্চলিক বিশেষায়িত সেবা, বিভিন্ন অর্থ লেনদেন মাধ্যমের (যেমন, ব্যাংক, মাস্টার কার্ড ইত্যাদি) সাথে সমনবয়সহ অন্যান্য সু্যোগ সুবিধা বিবেচনায় সঠিক সেবাপ্রদানকারি প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে গ্রাহকদের প্রায়ই দ্বিধাদন্দে পড়তে হয়। তবে পেইজা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে পদ্বতি এখন পর্যন্ত ইন্টারনেটে অর্থ লেনদেনের যথেষ্ঠ ভাল ভুমিকা পালন করছে।

পেইজা কি:

পেইজা হচ্ছে একটি অনলাইন অর্থ আদান-প্রদান সেবাদানকারি একটি ভার্চুয়াল পেমেন্ট গেটওয়ে যার ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিভিন্ন ই-কমার্স স্টোর থেকে কেনাকাটা করা যায়, অর্থ আদান-প্রদান করা যায় এবং মুদ্রা বিনিময় (কারেন্সি এক্সচেঞ্জ) করা যায়, অন্যদিকে লোকাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মাস্টারকার্ডসহ অন্যান্য সেবার সাথে সমন্বয় করে সহজে অর্থ উত্তোলন ও লেনদেন করা যায়।

জনপ্রিয় ও নিরাপদ অর্থ লেনদেন পদ্ধতি অ্যালার্টপের নতুন ও পরিবর্তিত রুপ হিসেবে ২০১২ সাল থেকে পেইজা তাদের সেবা প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশে এর আঞ্চলিক অফিস থাকায় দেশীয় প্রায় সকল ইকমার্স  প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসহ অন্যান্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের (যেমন, বিকাশ) সাথে সমনবিতভাবে সেবা প্রদান করে আসছে। তাছাড়া কেনাকাটা ও মানিট্রান্সফারের জন্য পেইজার রয়েছে নিজস্ব মাস্টারকার্ড।

সারাবিশ্বে প্রায় ১৯০ টিরও অধিক দেশে ২১টি ভিন্ন ভিন্ন কারেন্সিতে ইউকে ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ কোটিরও অধিক গ্রাহককে সেবা দিয়ে আসছে।

পেইজায় চার্জ, নিরাপত্তা গ্রাহক সুবিধা:

এখন পেইজার অ্যাকাউন্ট করা সাধারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা মতোই বিষয়। সাধারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর মতো এখানে তিন ধরনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা যায়। শুধু পাথর্ক্য এটি করতে হয় অনলাইনে www.payza.com এ সাইনআপ করে।

পেইজার যে দুই ধরনের অ্যাকাউন্ট করার সুযোগ আছে তার মধ্যে পারসোনাল টাইপের অ্যাকাউন্টটি করা ভালো। ফ্রিল্যান্সার বা অন্য সাইটে কাজ করেন তারা এখানে সকল ধরনের সুবিধা পাবেন।

পারসোনাল  অ্যাকাউন্টটিতে টাকা গ্রহণ বা প্রেরণের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তবে এখানে অন্য পেইজা  ইউজার থেকে টাকা গ্রহণ করলে 2.90 % + 0.30 ডলার ফি দিতে হয়। তবে এর আরেকটি সুবিধা হল- ব্যবহারকারীর নিজের কোনো ওয়েব সাইট বা ব্লগ থাকলে পেইজা যুক্ত করে কোনো পণ্য বা সার্ভিস বিক্রি করতে পারবেন ও গ্রাহকদের কাছ থেকে সহজেই টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।

বিজনেস অ্যাকাউন্ট এর সাহায্যে আপনার নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে অনলাইনে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। এখানে একটি একাউন্টির সাহায্য একাধিক ব্যবসায় পরিচালনা করা যায়। এর সকল সুবিধা ও সার্ভিস চার্জ https://www.payza.com/fees এখানে দেখে নিন।

 কীভাবে Payza অ্যাকাউন্ট করা যাবে:

প্রথমে এই লিংকে ক্লিক করুন www.payza.com এবং Sign Up বাটনে ক্লিক করুন। এরপর আমার দেওয়া Step গুলো Follow করুন।

১। Sign Up বাটনে ক্লিকের পর নিচের ছবির মত একটি পেজ আসবে এখান থেকে আপনি Personal ক্লিক করুন।

Untitled-1

 

২। Personal ক্লিক করার পর ভোটার ID কার্ড অনুযায়ী আপনার নাম বসান, Email, Password বসান। Get Started বাটনে ক্লিক করুন

 

Untitled-2

 

৩। Get Started বাটনে ক্লিক করার পর আপনাকে Email Verification করতে হবে।

৪। Email চেক করুন দেখবেন আপনার Email এ একটা Mail এসেছে Payza থেকে Mail  Open করুন এবং Validate my email লিংকে ক্লিক করুন। আপনার একাউন্ট তৈরি হয়ে গেছে।  Complete profile setup ক্লিক করুন আর আপনার বাকি তথ্য গুলো বসান অবশ্যই (ভোটার ID কার্ড অনুযায়ী) বাড়ির ঠিকানা ও কারণ পরে আপনাকে ভোটার ID কার্ড দিয়ে Account Verification  করতে হবে।

 কিভাবে Payza একাউন্ট ভেরিফিকেশন করবেন:

পেইজা একাউন্ট তৈরি করা খুব কঠিন কাজ না। ১ মিনিট সময় ব্যয় করেই এই একাউন্ট ওপেন করা যায়।

তবে পেইজাতে শুধু অ্যাকাউন্ট থাকলেই হবে না।অবশ্যই তা ভেরিফাই হতে হবে। একাউন্ট ভেরিফাইও খুব একটা কঠিন নয়। একাউন্ট ভেরিফাই করতে ২ টি জিনিসের প্রয়োজন।

১। ভোটার আইডি অথবা

২। পাসপোর্ট

আর আপনি যদি Photo ID Validation পদ্ধতি ব্যাবহার করে একাউন্ট ভেরিফাই করতে চান তাহলে আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সাথে পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের দরকার হবে । তবে Photo ID Validation পদ্ধতিতে ব্যাংক স্টেটমেন্টের কোনো প্রয়োজন নেই ।

 ভেরিফাই করবেন যেভাবেঃ

১। আপনার  পেইজা একাউন্টে লগইন করে উপরে বাম দিকে Verify your account এ  ক্লিক করুন

২। এখান থেকে আপনার পছন্দের অপশনটি বেছে নিন । আমি Document Validation অপশনটি সিলেক্ট করুন ।

৩। Photo ID অপশন থেকে যেকোনো একটি অপশন National ID Card/Passport  বেছে নিন এবং Upload a File থেকে আপনার ডকুমেন্টের স্ক্যান কপিটি সিলেক্ট করুন ।

৪। আপনার সাম্প্রতিক Photo আপলোড করুন।

 

সবকিছু ঠিক থাকলে Next চাপুন । আপনার আপলোড করা ডকুমেন্টের প্রিভিউ দেখতে পাবেন ।

সবকিছু ঠিক থাকলে সেন্ড অপশনে ক্লিক করে আপনার রিকোয়েস্টটি সেন্ড করুন ।

ভেরিফিকেশন রিকোয়েস্ট দেবার 2-3 দিনের মাঝেই পেজা থেকে রিপ্লাই পাবেন।

হয়ে গেলো আপনার একটি ভেরিফাই পেইজা অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্ট দিয়ে আপনি অনাইন এ কেনাকাটা করতে পারবেন। অনাইনে কাজ করে তার অর্থ আপনি এই অ্যাকাউন্ট এর মাধ্যমে আপনার হাতে পাবেন। পেইজা বাংলাদেশের সব ব্যাংক সাপোর্ট করে তাই আপনি যেকোনো ব্যাংক এর মাধ্যমে আপনার টাকা তুলতে পারবেন।

 

পেইজা ব্যবহারের সুবিধাসমূহ

১) বাংলাদেশের জন্য পেইজা অনেক ভাল একটি পেমেন্ট গেটওয়ে। বাংলাদেশের জন্য তারা স্পেসিয়ালাইজ সার্ভিস দিয়ে থাকে www.payza.com/bangladesh এর মাধ্যমে।

২) পেইজা মাস্টারকার্ড দিয়ে আপনি যেকোন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা আনতে পারবেন।

৩) আপনার পেইজা অ্যাকাউন্টে থেকে bKash দিয়ে টাকা লোড করতে পারবেন।

৪) বাংলাদেশের অনেক অনলাইন শপ পেইজা সাপোর্ট করে তাই আপনি পেইজা একাউন্ট দিয়ে অনেক শপ থেকেই প্রোডাক্ট কিনতে পারবেন।

 

লেখক: নাজমূল হক

বিঃদ্রঃ এই লেখাটি “কম্পিউটার জগৎ” ম্যাগাজিনে জানুয়ারী-২০১৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে ।

 

 

 

 

    

পোস্টটি শেয়ার করূন, অন্যজনকে জানতে দিন

2 Comments so far:

  1. aminul islam says:

    Thanks for this post