এস.ই.ও -তে সফল একজন ফ্রিল্যান্সারের গল্প

seo-yeasinul-haydar-rupok

ব্যর্থতাকে জয় করতে শিখুন, দেখবেন আপনি একসময় অন্যের সাফল্যের পথিক হয়ে দাঁড়িয়েছেন

আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচয়?

–  আমার নাম মোঃ ইয়াসিন উল হায়দার। আমার জন্ম মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। আমার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বি. টি. আর. আই. উচ্চ বিদালয় ও শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ। আমার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বিষয় পলিটিক্যাল স্টাডিজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আমার বাবার নাম মোঃ আব্দুল কাইয়ুম। তিনি পেশায় ছিলেন একজন সাবেক সরকারি  কর্মকর্তা  এবং আমরা চার ভাই বোন।

ফ্রিল্যান্সিং-এর শুরুর গল্পটা যদি বলতেন ?

–  ফ্রিল্যান্সিং-এ আসার পেছনে কৃতজ্ঞতা হল তানভির আহমেদ (বাংলালিংক ইঞ্জিনিয়ার) ও নাজমুল হক ( পরিচালক সিলেট আইটি একাডেমি)। তানভির আহমেদ প্রথম আমাকে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি কাজ দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই ফ্রিল্যান্সিং-এর প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকা। এর পর্যায়ক্রমে প্রচণ্ড প্রজ্ঞা, কমিটমেন্ট ও ভালবাসা থেকে এখানেই নিজের ক্যারিয়ার বা ভবিষ্যৎ তৈরির বীজ বপন হয়।

ফ্লিল্যান্সিং-এর প্রথম কাজ আর আপনার অনুভূতি যদি বলতেন ।

– ফ্রিল্যান্সিং-এর প্রথম কাজ ছিল ওডেক্স-এ ৫০ সেন্ট এর। ছাত্র অবস্থায় তখন আসলে কাজটি করার অনুভূতি ছিল আলাদাই। তাই কাজটি এখনও আমার প্রোফাইলে এবং আমার ছোট দুই বোনের প্রোফাইলে আছে। আমি এই কাজটি এখনও ঘন্টায় ৩ ডলার করে পর্যায়ক্রমে করে যাচ্ছি।

mobile-search-engine-optimization-1200x650

ফ্রিল্যান্সিং পেশাটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?

– ফ্রিল্যান্সিং চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। এখানে প্রতিদিনই নতুন নতুন বিষয় শিখত হয়। এখানে সবসময় উচ্চ কমিটমেন্টে কাজ করতে হয়। লেগে থাকতে হয়, প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখতে হয়। যদি আপনি নিজেকে আপডেট রাখতে পারেন ,তাহলে এই সেক্টরে সফল্যতা আসবেই। আর বর্তমান চাকরি বাজারে ফ্রিল্যান্সিং পেশাটাকে আমি সবার উপরেই রাখব। এখানে আপনার যোগ্যতা আপনাকে সফল্যতায় নিয়ে যাবে। আপনার শুধু দরকার লেগে থাকা আর পরিশ্রম করার মানসিকতা।

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য এস. ই. ও. কে কেন বেচে নিলেন ? ফ্রিল্যান্সিং-এ এস. ই. ও. কতটা গুরুত্বপূর্ণ আপনি মনে করেন? অভিজ্ঞতা থেকে বলবেন ।

– ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য এস. ই. ও. কে বেচে নেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এস. ই. ও.-র অনেক বড় একটি বাজার রয়েছে এবং সব ধরনের ব্যবসা ই-কমার্সে চলে আসার প্রবণতা রয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং-এ এস. ই. ও. গুরুত্বপূর্ণ কেননা অনলাইন বাজার সম্প্রসারণের এবং নিজের ব্যবসা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এস. ই. ও. -র বিকল্প নেই। আর এখন অনলাইন  মার্কেটিং ছাড়া কোন কিছু এগুতে পারবেনা , সেই ক্ষেত্রে আমার মনে হয় এসইও বর্তমানে সব দিক থেকে এগিয়ে আছে ।

ফ্রিল্যান্সিং এর পাশাপাশি যা করছি।

– আসলে ফ্রিল্যান্সিং এর পাশাপাশি যা করছি তা এমন কিছু নেই। প্রতিদিনই নতুন নতুন বিষয় শিখতে হচ্ছে এবং কাজ করে যাচ্ছি। সত্যি কথা নিজের টিমকে নিয়ে কাজ করতে আনন্দবোধ করি এবং ভাল লাগে। নিজের টিমকে নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করতে পারছি বলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়।

SEO

ফটোঃ আমি এবং আমার টিম

ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে অনেকে নানান সমস্যায় পড়ে, এর থেকে সমাধান কি করে পেতে পারে? আপনার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলুন।

-ফ্রিল্যান্সিং করতে যেয়ে আসলে যে সমস্যাগুলো হয় তা হল সঠিক নির্দেশনার অভাব, প্রফেসনালিজমের অভাব,  নিয়মানুবর্তিতার অভাব, পর্যাপ্ত পরিমান রিসোস ( জনবল, টিউটোরিয়াল, বই, প্রসেস) ইত্যাদির অভাব। আসলে ঐগুলো থেকে বের হওয়ার আমার কোন নির্দেশিকা নেই। কারণ এই সমস্যাগুলোর সমাধান নিজেকেই খোঁজে বের করতে হবে। তবে এইটুকু বলতে পারি, এই পথে লেগে থাকতে হবে নিয়মানুবর্তিতা মেনে।

এই ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কি কি কারণ হতে পারে ? নিজের skills আর সফলটার ব্যাপারটা কিভাবে দেখছেন ?

-এই ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অনেক কারণ রয়েছে। এই পেশাটা অন্য পেশার তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। আগেই আমি বলেছি নির্দেশনার অভাব, প্রফেসনালিজমের অভাব, নিয়মানুবর্তিতার অভাব, পর্যাপ্ত পরিমান রিসোস ( জনবল, টিউটোরিয়াল, বই, প্রসেস) ইত্যাদির জন্য ব্যর্থ হতে পারে। সরকার যেভাবে ফ্রিল্যান্সিংকে প্রচার করছে, তাতে ভবিষ্যৎ-এ ফ্রিল্যান্সিং অনেক দূরে এগিয়ে যাবে ।  তবে ধৈর্য সহকারে লেগে থাকা এবং নিজের স্কিল বৃদ্ধির মাধ্যমে এখানে অবস্থান তৈরি করা যেতে পারে।

আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা আসবে,ব্যর্থ হয়ে পিছিয়ে গেলে আপনি কখনও সফল হতে পারবেন না। সফল ব্যাক্তিদের দেখুন তারা একদিনেই সাফল্যতা পায় নি। তাদের সাফল্যতার পিছনে ব্যর্থতা লোকিয়ে আছে। ব্যর্থতা আপনাকে সাফল্যতার দিকে নিয়ে যাবে, তাই আমি বলব ব্যর্থ হয়ে থমকে যাবেন না। ব্যর্থতাকে জয় করতে শিখুন, দেখবেন আপনি একসময় অন্যের সাফল্যের পথিক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

কোন blog বা site আপনি বেশি Follow করেন?

– প্রথম দিকে অনেক ব্লগই follow করতাম, কিন্ত এখন আর ঐভাবে follow করা হয় না। তবে ব্রায়ান ডিন এর ব্যাকলিংকো ও গচ-এস. ই. ও. এই দুইটি ব্লগ খুবই উপকারী নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য।

একজন Freelancer এর Portfolio Build-Up করার ব্যাপারে কিছু বলুন?

-আমি সাজেস্ট করব নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য, অলরেডি এই ট্রেন্ড এ সফলতা পেয়েছেন তাদের সাথে কাজ করে Portfolio Build-Up করলে ভাল হয়। আর ভাল Portfolio Build-Up ছাড়া ভাল কাজেরও প্রত্যাশা করা যায় না। আর Portfolio  ছাড়া ক্লাইন্টেও কিন্তু বুঝতে পারবে না আপনি কতটা স্কিলড। আপনার নিজেকে প্রমান করার জন্য অব্যশই  Portfolio Build-Up করা প্রয়োজন।

আপনার কাজ করতে করতে যখন বিরক্ত আসে তখন কি করেন?

-আসলে আমি ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি খুব বেশি উপভোগ করি তাই ঐভাবে কখনোই বিরক্তি বোধ হয় না।আর ফ্রিল্যান্সিং পেশাটাই এমন,যেখানে বিরক্ত আসে খুব কম।  তবে সময় পেলে পরিবারের সাথে বা টিমের সাথে ঘুরে বেড়ানোর চেষ্টা করি।মাঝে মাঝে গান শুনি।

blog_seo_machine_banner-1170x630

আপনার প্রতিদিনের কাজের রুটিন

-আমি প্রথমে বলেছি নিয়মানুবর্তিতার বিকল্প কিছু নেই। আমি এবং আমার টিম প্রতিদিন সকাল ১০টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অফিসে কাজ করে থাকি। এর বাইরেও ওয়াটসঅ্যাপ, স্কাইপি ও ইমেইলের মাধ্যমে সব ধরনের অনলাইন যোগাযোগ বজায় রাখি। আর আমার প্রতিদিনের রুটিনই এখন আমার টিম। যখন একা ফ্রিল্যান্সিং করতাম তখন প্রতিদিন ১২/১৪ ঘন্টা কাজ করতাম। কিন্তু এখন আমার একটা টিম আছে,ওদের নিয়েই আমার প্রতিদিন চলে যায়।

নতুনদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কি?

-আমি প্রথমেই বলব নতুনদের জন্য খুব বেশি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ না হলে এই পেশায় আসা উচিত নয়। কিন্ত যদি কেউ প্রতিনিয়িত চ্যালেঞ্জ নেয়া ও শিখার মন-মানসিকতা রাখেন তবে এটি খুব সম্ভাবনার একটি ক্যারিয়ার হতে পারে। আমি নিজেও একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমি আমার ক্যারিয়ার এই সেক্টরে গড়ে নিয়েছি। আপনারা চাইলে নিজেদের এখানে গড়তে পারেন,তবে মনে রাখতে হবে চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য আপনার প্রস্তুত থাকতে হবে। নিজেকে কাজ শিখার প্রতি আগ্রহী করতে হবে। তবেই আপনি সফল হবেন।

স্বাক্ষাতকার গ্রহণে:রাজু আহমেদ চৌধুরী 
(এডিটর) ফ্রিলান্সারস্টোরি
আমাদের ফেইসবুক পেজ
আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ

এস.ই.ও সম্পর্কে আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চ করুন

web hosting

জনপ্রিয় লেখাসমূহ

Find us on facebook

Scroll to top