FreelancerStory.Com

ইন্টারনেটে কাজ করুন ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করুন

বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে জরিপ ও তার ফলাফল

Published On: March 20, 2011 Category: জরিপ, 3 Comments

আমাদের দেশে কতজন ফ্রিল্যান্সার আউটসোর্সিং কাজের সাথে জড়িত তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান এখনও পর্যন্ত কারো কাছে নেই। ইন্টারনেটে কে কোথা থেকে কাজ পাচ্ছেন তা জানা দূরহ কাজ। মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনেকে নিজেদের প্রোফাইল প্রাইভেট করে রাখেন যা শুধুমাত্র একজন ক্লায়েন্টই দেখতে পারে, অনেকে আবার ক্লায়েন্টদের সাথে সরাসরি কাজও করে থাকেন। ফ্রিল্যান্সাররা স্বেচ্ছায় কোন জরিপে অংশগ্রহণ না করলে বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে জানা কখনও সম্ভব নয়। বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা কে কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন, কে কোন পদ্ধতিতে দেশে টাকা নিয়ে আসছেন, কে কত ডলার আয় করছেন ইত্যাদি নানা তথ্য জানতে “কম্পিউটার জগৎ” এর পক্ষ থেকে একটি জরিপের আয়োজন করা হয়েছিল। বিভিন্ন বাংলা ব্লগ এবং ফ্রিল্যান্সিং গ্রুপে এই জরিপে অংশগ্রহণ করার জন্য ফ্রিল্যান্সারদেরকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। এতে সাড়া দিয়ে গত একবছরে মোট ১৭৫ জন ফ্রিল্যান্সার জরিপে অংশগ্রহণ করেন। দেশে কয়েক হাজার ফ্রিল্যান্সরদের তুলনায় সংখ্যাটি নিতান্তই নগণ্য, অধিকন্তু জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ এখনও কোন কাজ পাননি। তারপরও এ থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতির একটি আংশিক ধারণা পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: আপনার পেশা

ফুলটাইম ফ্রিল্যান্সার ৪২ ২৪%
চাকুরীজীবি ৩৯ ২২%
ব্যবসায়ী ৫%
শিক্ষার্থী ৮৩ ৪৭%
গৃহিণী ১%


ফ্রিল্যান্সারদের একটি বড় অংশ হচ্ছেন শিক্ষার্থী। অনেকে পড়ালেখা শেষ করে সরাসরি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করছেন এবং একে মূল পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। চাকুরীজীবিদের মধ্যে অতিরিক্ত আয়ের লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং এ যুক্ত হওয়ার প্রবণতা ইদানিং লক্ষ্য করা যায়। তাদের মধ্যে যারা ভাল করছেন তারা অনেকেই পরবর্তীতে চাকুরী ছেড়ে পূর্ণকালীন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করছেন। যদিও এই জরিপে কতজন মহিলা ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন তা যাচাই করা হয়নি, কিন্তু বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস পর্যবেক্ষণ করে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় নারীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আউটসোর্সিং কাজে জড়িত রয়েছেন এবং ভাল আয় করছেন।

প্রশ্ন: ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রথম কিভাবে জানতে পেরেছিলেন?

“কম্পিউটার জগৎ” ম্যাগাজিন থেকে ৫১ ২৯%
সংবাদপত্র থেকে ১৫ ৯%
ইন্টারনেটে থেকে ৪১ ২৩%
বন্ধুর মাধ্যমে ৩৮ ২২%
সেমিনারে অংশগ্রণ করে ১%
freelancerstory.blogspot.com সাইট থেকে ৪%
অন্যান্য ২১ ১২%


দেশে ফ্রিল্যান্সিং এর প্রসারে “কম্পিউটার জগৎ” ম্যাগাজিনের উল্লেখযোগ্য অবদান এই জরিপ থেকে সহজেই প্রতিয়মান হয়। পাশাপাশি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন বাংলা সাইটও নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে সহায়তা করছে। গত দুই বছর ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে একধরনের সেমিনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেমিনারে অংশগ্রহণ করে যে রাতারাতি ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায় না তা সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে। কাজ করতে হলে আগে সে কাজ ভালভাবে জানতে হবে।

প্রশ্ন: আপনি কোন সাল থেকে ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে জড়িত?

২০১১ ১৩ ৭%
২০১০ ৭৩ ৪২%
২০০৯ ৬৩ ৩৬%
২০০৮ ২১ ১২%
২০০৭ ২%
২০০৬ ১%
২০০৫ ০%


গত পাঁচ বছর ধরে দেশে ক্রমবর্ধমান হারে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা বাড়ছে। এই ধারা অব্যহত থাকলে আশা করা যায় এই বছর নতুন ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা পূর্ববর্তী সকল বছরকে ছাড়িয়ে যাবে।

প্রশ্ন: আপনি কোন ধরনের কাজগুলো করে থাকেন? **

ওয়েবসাইট তৈরি ৫৫ ৩১%
ওয়েবসাইট টেম্পলেট ডিজাইন ৪০ ২৩%
গ্রাফিক্স ডিজাইন ৬৭ ৩৮%
প্রোগ্রামিং ২৭ ১৫%
ডাটা এন্ট্রি ১০৭ ৬১%
এনিমেশন তৈরি ১১ ৬%
গেমস তৈরি ২%
অন্যান্য ৮৪ ৪৮%
SEO ২৮ ১৬%
সেলস এন্ড মার্কেটিং ১২ ৭%


জরিপ থেকে দেখা যায় ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে ডাটা এন্ট্রি কাজ করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। তার পরবর্তী স্থানে রয়েছে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট তৈরি এবং প্রোগ্রামিং। অনেকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) কাজও করছেন। যদিও জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস ওডেস্ক (www.oDesk.com) এ বর্তমানে ওয়েব প্রোগ্রামিং এবং ওয়েব ডিজাইনের কাজ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তার পরবর্তী স্থানে রয়েছে সেলস এন্ড মার্কেটিং, লেখালেখি এবং গ্রাফিক্স/মাল্টিমিডিয়ার কাজ।

আপনি কোন কোন মার্কেটপ্লেসে নিয়মিত কাজ করে থাকেন? **

ওডেস্ক ৯০ ৫১%
ফ্রিল্যান্সার ৩৬ ২১%
ভি-ওয়ার্কার ১৫ ৯%
গেট-এ-কোডার ৫%
স্ক্রিপ্টল্যান্স ১১ ৬%
মাইক্রোওয়ার্কস ৪৮ ২৭%
থিমফরেস্ট (এনভাটো) ৫%
জুমল্যান্সার্স ৩%
সরাসরি ক্লায়েন্ট থেকে ২৭ ১৫%
অন্যান্য ৬৬ ৩৮%


জরিপে অংশগ্রহণকারী অর্ধেকেরও বেশি ফ্রিল্যান্সার ওডেস্কে কাজ করছেন। ঘন্টা হিসেবে কাজের জন্য ওডেস্ক বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস। এটি একজন ফ্রিল্যান্সারের ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করে। অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজে অনেক সময় দেখা যায় ক্লায়েন্টরা মূল চাহিদার বাইরেও অতিরিক্ত কাজ দিয়ে থাকে, যাতে একজন ফ্রিল্যান্সারে সময় এবং অর্থের অপচয় হয়। একসময় ভিওয়ার্কার (রেন্ট-এ-কোডার) ও স্ক্রিপ্টল্যান্স সাইটের প্রচুর সুনাম ছিল। পরবর্তীতে ফ্রিল্যান্সার ডট কম সাইট সবাইকে আকৃষ্ট করে। সবগুলোকে ছাপিয়ে ওডেস্ক এখন হয়ে উঠেছে অপ্রতিদ্বন্ধী। তবে সবগুলো সাইটেই প্রথম কাজ পাওয়াটা সময়সাপেক্ষ। তাই অনেকে হতাশ হয়ে মাইক্রোওয়ার্কার্স সাইটে খুব অল্প পারিশ্রমিকে কাজ শুরু করেন।

মার্কেটপ্লেস থেকে এ পর্যন্ত আপনি কতটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন?

একটিও নয় ৬৯ ৩৯%
১ – ৩ টি ২৫ ১৪%
৪ – ১০ টি ৩০ ১৭%
১১ – ৫০ টি ২২ ১৩%
৫১ – ১০০ টি ৫%
১০১ টি বা তার থেকে অধিক ১০ ৬%


আমাদের দেশে অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা এখনও নতুন ফ্রিল্যান্সারদের তুলনায় অত্যন্ত কম। এই জরিপে দেখা যাচ্ছে একটিও কাজ পান নি এরকম ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা হচ্ছে ৩৯%। তবে বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ওডেস্কে রেজিষ্ট্রেশনকৃত ২০,৬৬৫ জন বাংলাদেশীদের মধ্যে ৯০.৭% এখনও কোন কাজ পাননি। এথেকে অনেকগুলো বিষয় অনুমান করা যায় – কাজের জন্য পর্যাপ্ত জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব, সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব, ইংরেজীতে অদক্ষতা ইত্যাদি।

প্রথম কাজ পেতে আপনার কত সময় লেগেছিল?

এখনও কোন কাজ পাইনি ৭১ ৪১%
১ সপ্তাহ থেকে কম ২৬ ১৫%
১ থেকে ২ সপ্তাহ ১৩ ৭%
১ মাসের মধ্যে ২৪ ১৪%
২ থেকে ৩ মাস ২০ ১১%
৩ থেকে ৬ মাস ৩%
৬ মাসের থেকে বেশি সময় ১১ ৬%


প্রথম কাজ পাওয়াটা কারো কারো কারো ক্ষেত্রে এক সপ্তাহেই হয়ে যায় আর কারো কারো ক্ষেত্রে ৬ মাসের বেশি সময়ও লাগতে পারে। তবে কাজে দক্ষতা থাকলে বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সাররাই এক মাসের মধ্যেই কাজ পেয়ে যান। পরিপূর্ণ প্রস্তুতি না হয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে হতাশাই দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ে।

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক মোট কত ডলার আয় করেছেন?
এই প্রশ্নের উত্তর মাত্র ৮৫ জন ফ্রিল্যান্সার দিয়েছেন। এদের মধ্যে সর্বনিম্ন মোট আয় হচ্ছে ১০ ডলার এবং সর্বোচ্চ ৩৬,০০০ ডলার। এদের আয়ের মোট যোগফল দাড়ায় ১৮১,৮০০ ডলার।


নূন্যতম ১০০ ডলার ১৮ জন
১০০ – ১,০০০ ডলার ৩৭ জন
১,০০০ – ৫,০০০ ডলার ২২ জন
৫,০০০ ডলারের অধিক ৬ জন


অর্থ উত্তোলনের জন্য আপনি কোন কোন পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে থাকেন? **

পেওনীর মাস্টারকার্ড ৬৬ ৪৩%
মানিবুকার্স ৭০ ৪৬%
পেপাল ৩২ ২১%
ব্যাংক ওয়্যার ট্রান্সফার ১৯ ১৩%
চেকের মাধ্যমে ১৬ ১১%
ওয়েস্টার্ণ ইউনিয়ন ১১ ৭%
এলার্টপে ৩২ ২১%
অন্যান্য ৩২ ২১%


বর্তমানে সকল মার্কেটপ্লেসগুলোতেই পেপালের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন পদ্ধতি চালু রয়েছে। বিশেষ করে পেওনীর ডেবিট মাস্টারকার্ড এবং মানিবুকার্সের সাহায্যে প্রায় সকল জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা দেশে আনা যায়। তবে যারা সরাসরি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে কাজ পান তাদের ক্ষেত্রে পেপাল না থাকা একটি বড় ধরনের অসুবিধা। যদিও আমাদের দেশে পেপালের সার্ভিস নেই তথাপি জরিপে দেখা যায় ২১% ফ্রিল্যান্সার পেপাল ব্যবহার করছেন। এক্ষেত্রে তারা বিদেশে অবস্থিত তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সাহায্যে পেপালের একাউন্ট ব্যবহার করছেন। অনেকে আবার ভিন্ন কোন দেশের ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে পেপালে একাউন্ট তৈরি করছেন এবং তা পেওনীর মাস্টারকার্ড দিয়ে ভেরিফাই করিয়ে নিচ্ছেন। তবে একসময় পেপাল বিষয়টি ধরে ফেলে এবং সাথে সাথে একাউন্টটি বন্ধ করে ফেলে।

** চিহ্নিত প্রশ্নগুলোতে একাধিক উত্তর নির্বাচন করার সুযোগ ছিল, ফলে মোট শতাংশ ১০০% এর বেশি হতে পারে।

ওডেস্কে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের বর্তমান অবস্থা
জরিপে দেখা যায় যে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ওডেস্ক। ওডেস্কে অন্তত একটি কাজ করেছেন এরকম বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে কে কোন ধরনের কাজ করছেন এবং কে কতটুকু ভাল করছেন তা নিচের চার্ট থেকে বোঝা যায় –


কাজের ধরণ জন রেটিং জন কাজের অভিজ্ঞতা জন
Web Development ৯৫৭ ৪.৫ – ৫.০ ১,৩৮৯ ১ ঘন্টা বা ১ ডলার আয় ১,৯১৫
Software Development ৩৬৩ ৪.০ – ৪.৫ ২৭৬ ১০০+ ঘন্টা ৮৮৫
Networking & Information Systems ১৯৬ ৩.০ – ৩.৯ ২১৭ ১০০০+ ঘন্টা ১৩০
Writing & Translation ৭৪৮ ২.০ – ২.৯ ৭৯
Administrative Support ১,৩৩১ ১.০ – ১.৯ ৯০
Design & Multimedia ৮১৪
Customer Service ৩৩৫
Sales & Marketing ১,১৬৯
Business Services ৩০৩


ওডেস্কে প্রাপ্ত বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, কম খরচে যে সকল দেশ আউটসোর্সিং কাজ করে থাকে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের গড় রেট হচ্ছে প্রতি ঘন্টায় ৬.৫৩ ডলার। এক্ষেত্রে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ফিলিপিন, যাদের গড় রেট ৫.৯৬/ঘন্টা। অন্যদিকে রেটিং বা কাজের মানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে রয়েছে। গড় রেটিং ৪.১১ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ৪৮তম, যেখানে প্রথম অবস্থানকারী লাটভিয়ার গড় রেটিং হচ্ছে ৪.৮২। বাংলাদেশের ঠিক পূর্বের অবস্থান অর্থাৎ ৪৭তম স্থানে রয়েছে আমাদের প্বার্শবর্তী দেশ ভারতের অবস্থান।

ওডেস্কে বাংলাদেশী টিম বা এজেন্সীগুলো বেশ ভাল করছে। গত এক মাসে গড় রেটিং নূন্যতম ৪.০ এবং ৪০০ ঘন্টার উপর কাজ করেছে এরকম একটি তালিকায় শীর্ষ ৫০ এ ৬টি বাংলাদেশী এজেন্সী রয়েছে। তন্মধ্যে “Creative Innovation” নামে ঢাকা থেকে পরিচালিত একটি টিম ৮ম স্থানে রয়েছে। আর “কম্পিউটার জগৎ” ম্যাগাজিনে গত বছর ফিচার করা টিম “আলফা ডিজিটাল” এর অবস্থান হচ্ছে ৫১তম অবস্থানে।

বাংলাদেশীদের মধ্যে ওডেস্কে সবচেয়ে বেশি ঘন্টা কাজ করেছেন “মিনহাজ পারভেজ” নামে একজন ফ্রিল্যান্সার। তিনি মূলত ডাটা এন্ট্রি, আর্টকেল সাবমিশন এবং এসইও এর কাজ করে থাকেন। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি ৩৩ টি প্রজেক্টে মোট ৯ হাজার ঘন্টার উপর কাজ করেছেন। উনার গড় রেটিং হচ্ছে ৪.৯৯। তিনি গত তিন বছরে ওডেস্ক থেকে ৩০ হাজারের অধিক আয় করেছেন। বর্তমানে ওডেস্কের সকল ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে মিনহাজ পারভেজের অবস্থান হচ্ছে ১৭তম। তবে শীর্ষ ৫০ এ আর মাত্র একজন বাংলাদেশীকে খোঁজে পাওয়া যায়। তিনি হচ্ছেন “দেলওয়ার হোসেন” নামে আরেকজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। তিনি মোট ৮ হাজার ঘন্টা কাজ করে শীর্ষ ২৮তম স্থানে অবস্থান করছেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামত:

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং বিষয়ে তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন সমস্যা এবং নানা ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মতামত প্রকাশ করা হল।


রুবায়েত হোসেন
উত্তর কাফরুল, মিরপুর, ঢাকা
ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটি অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম যেখানে একজন তার সৃজনশলতা প্রকাশ করতে পারে। এটি অতিরিক্ত আয়ের একটি ভাল উৎস। ছাত্রছাত্রীরা ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে তাদের পড়ালেখার খরচ নিজেরাই চালিয়ে নিতে পারে। আমি কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন ছাত্র এবং একজন ফ্রিল্যন্সার। আমি প্রধানত ওডেস্কে কাজ করি। প্রথম কাজ পাওয়াটা কঠিন, তবে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে গেলে আমি আশা করি সফলতা আসবে।

শামিমা আক্তার
নাজিমুদ্দিন রোড, ঢাকা
ফ্রিল্যান্সিং এর একটি সামাজিক পরিচিতি থাকা উচিত। ফ্রিল্যান্সারদেরকে একত্রিত করা এবং তাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য একটি এসোসিয়েশন থাকা প্রয়োজন। এসোসিশেশনটি প্রত্যেক ফ্রিল্যান্সারকে একটি আইডি কার্ড এবং তাদের কাজের কিছু নিয়মনীতি ঠিক করে দিতে পারে।

মহসিনুল আলম
কাফুরিয়া, নাটোর
প্রথম প্রথম একা একা কাজ করতাম। কিন্তু অনেক ক্লায়েন্ট একটি কাজের জন্য একসাথে অনেক ফ্রিল্যান্সার চায়। এ সমস্যা থেকে একটি টিম করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। টিমে যোগদান বা ফ্রিল্যান্স করার জন্য সবসময় পেশাদার মানষিকতার প্রয়োজন। তাই আমি আমার টিম মেম্বারদেরকে সর্বপ্রথমে যেসব বিষয়গুলো বোঝাই তা হলো, সবার আগে প্রয়োজন সঠিক ভাবে ইংরেজীতে যোগাযোগ করা। আপনি যা, তা সঠিক ভাবে আপনার প্রোফাইলে উপস্থাপন করা। Cover Letter এ বায়ারকে বোঝানো যে আপনি কাজটি জানেন এবং সঠিক ভাবে করতে পারবেন। অনেকে দুই এক লাইনে Cover Letter লিখেন, তা ঠিক নয়। সব সময় পরিপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে হবে। কখনও বায়ারের কাছে কাজের জন্য রিকুয়েষ্ট বা একেবারে কম মুল্যে কাজের অফার করা উচিত নয়, তাহলে বায়ার বুঝবে আপনি কাজটি করার যোগ্য নন। প্রজেক্ট সম্পর্কে আপনার বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন। কোন প্রশ্ন থাকলে বায়ার কে প্রশ্ন করুন, প্রশ্নে বায়ার খুশি হয়।

আইটি জগতে জাকারিয়া ভাইকে আমি তার গ্রাফিক্স সংক্রান্ত একটি সাইট থেকে জানি। তিনি ফ্রিল্যান্স জগতে বাংলাদেশকে উন্মোচিত করার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি তার প্রচেষ্টাকে আন্তরিকভাবে সমর্থন করি এবং ভালবাসি।

আবু সাঈদ মোঃ সায়েম
রাজপারা, রাজশাহী
আমি মনে করি এখন আমাদের সময় হয়েছে ফ্রিল্যান্সকে একটি আলাদা শিল্প হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার। আমি নিজেই যখন শুরু করেছিলাম তখন একা ছিলাম আর এখন আমি একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে রয়েছি। আশাকরি খুব শিগগির আমি আমার এই লক্ষে সফল হব। এখন আমাদের যেটা সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সেটা হল হাই ইস্পীড ইন্টারনেট এবং দেশে টাকা আনার সহজ ও দ্রুত মাধ্যম। সেই সাথে আর একটা বিষয় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন আমরা যারা ফ্রিলান্সিং করি তারা যেন একে অন্যের সাথে সহযোগিতার মনভাব রাখি আর নূতনদের সহযোগিতা করি। কারণ আমি অনেকেই দেখেছি যে একটু অভিজ্ঞ হয়ে গেলে নূতনদের সাথে অনেক অবহেলার সাথে ব্যবহার করেন। আমরা যদি পরস্পর সহযোগিতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ করতে পারি তবে সেই দিন আর বেশি দূরে নেই যেদিন আমাদের বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে পার্শ্ববর্তী দেশকেও ছাড়িয়ে যাবে। আমি নূতনদের শুধু একটা কথা বলতে চাই যে আপনারা যারা একদম নূতন তারা প্রায়ই যেটা করেন সেটা হল ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্স কাজ সম্পরকে অনেকটা কিছু না জেনেই কাজের জন্য ওডেস্ক বা এই ধরনের ওয়েবসাইটের রেজিস্ট্রেশন করেন এবং পরে কিছু বুঝে উঠতে না পেরে পিছিয়ে পরেন বা মানসিক চাপে ভুগতে থাকেন। তাই এমনটি না করে আপনারা যখনই ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্স বিষয়ে জানলেন তখন আরও ভালভাবে জানুন তারপর ঠিক করুন আপনি কি ধরণের কাজের উপযোগী হিসেবে নিজেকে মনে করছেন, এরপর সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিন আর এরপর কাজের জন্য রেজিস্ট্রেশান করে আপনার ফ্রিল্যান্সার ক্যারিয়ার শুরু করুন। আর ভাল কাজ মার্কেট থেকে পেতে হলে আপনাকে আরও একটা কাজ করতে হবে যে অবশ্যই মার্কেটপ্লেস-এর আপনার বিষযের সাথে সম্পর্কিত পরীক্ষাগুলো দিয়ে পাশ করতে হবে। আমাদের বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্স-এর কাজের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাক সেই প্রত্যাশাই করছি।

তারেক
মিরপুর, ঢাকা
আমাদের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা বাংলাদেশে পেপাল ব্যবহার করতে পারি না। আমরা যদি পেপাল ব্যবহার করতে পারতাম তাহলে তা ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হত। উদাহরণসরূপ পেপাল না থাকার কারণে আমার নিজের অন্তত ১০০০ ডলারের কাজ হাতছাড়া হয়ে গেছে। বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট পেপালের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে চায়। আমরা বাংলাদেশীরা এক্ষেত্রে খুব বেশি হতভাগা।

শেখ আরিফ হোসেন
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
আমি ব্যাথিত হই যখন দেখি অনেক বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সাররা ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা নেয়ার জন্য অসৎ উপায় অবলম্বন করছে। এটি ক্লায়েন্টদের কাছে নিজেদের পাশাপাশি দেশেরও খারাপ মনোভাব ফেলছে। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি একজনকে নিজের দক্ষতার উপর দৃঢ় থাকতে হবে। আমি নিজে এই পদ্ধতি অনুসরণ করি এবং খুব ভাল ফলাফল পাচ্ছি। ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী কোন কাজ না পারলে তা সাথে সাথে ক্লায়েন্টকে জানিয়ে দিতে হবে। আমি নিশ্চিত সে বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবে।

এবার আমি আমার নিজের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করব, যখন আমি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমি সেসময় একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম। তখন একটি তথাকথিত মর্যাদাপূর্ণ গ্রুপ থেকে জানানো হল এ ধরনের কাজ নিম্নমানের। এমনকি তাদের গ্রুপে আমাকে নিতেও অসম্মতি জানালো। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আমি আমার মনোবল হারাইনি। বর্তমানে আমি ওডেস্কে গত ছয় মাসে ২,২০০ ঘন্টার উপর ডাটা এন্ট্রির কাজ করেছি। এখন আমি এমন পর্যায়ে পৌছে গেছি যে, অতিরিক্ত কাজ করার সময় না থাকায় আমাকে প্রতিদিন অনেকগুলো কাজের অফার ফিরিয়ে দিতে হয়।

হাসিব
মিরপুর, ঢাকা
আমি মনে করি ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং এর সবচেয়ে বড় বাধা ব্যয়বহুল ইন্টারনেট ব্যাবস্থা। তাছাড়া আরো যে সমস্যাগুলো আছে তা হল ফ্রিল্যান্সারদের ইংরেজী জ্ঞানের অভাব, কম্পিউটার সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব, অর্থ উত্তোলনের সমস্যা, আউটসোর্সিং এর পর্যাপ্ত প্রচারনার অভাব, ভূয়া প্রচারনা ইত্যাদি। আমি মনে করি শিক্ষাথীদের যদি কম্পিউটার ও ইংরেজী জ্ঞানে প্রশিক্ষিত করা যায় এবং সল্প মূল্যে উন্নত ইন্টারনেট সেবা দেয়া যায় তাহলে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং এর ব্যাপক অগ্রগতি হবে আশা করা যায়। তবে দুঃখের কথা এই যে বাংলাদেশের তরুন প্রজন্ম বা শিক্ষাথীদেরর অধিকাংশ ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং শব্দটির সাথে পরিচিত নয়।

ডাঃ আব্দুর রহমান খালেদ
উত্তর শাজাহানপুর, ঢাকা
আমি একজন ডাক্তার, কাজের চাপে এত ব্যস্ত থাকতে হয় যে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য সম্পূর্ণরূপে সময় দেয়া যায় না। তবে আমি এটি খুব উপভোগ করি। একটি একজন ব্যক্তির পাশাপাশি দেশের জন্যও উপকারী। এটি দিয়ে বেকার সমস্যার অনেকটাই নিবারণ করা যায়। যদি পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া যায় তাহলে আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিং এর রয়েছে উজ্জল ভবিষ্যৎ। ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে বিভিন্ন উদ্দ্যোগ নেয়ার জন্য “কম্পিউটার জগৎ”-কে অনেক ধন্যবাদ।

মোঃ ইব্রাঃহীম আরমান
ডালমিল, খুলনা, বাংলাদেশ
বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে বর্তমানে প্রচুর তরুণ রয়েছে যারা আইটি নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছূক। কিন্তু তা পেরে উঠছে না শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা এবং ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করতে বিশাল কোর্স ফি এর জন্য, যা একজন ছাত্রের পক্ষ বহন করা সম্ভব নয়। আমাদের দেশ ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এর এক বিশাল বাজার। এই সকল ডাটা এন্ট্রি অপারেটর-দের কাজে লাগানো হচ্ছে না। তাদেরকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে উন্নত দেশের মধ্যে আমাদের দেশকে অন্যতম হতে আর বোধ হয় বেশী সময় প্রয়োজন পড়বে না।

মোঃ খালেদুর রহমান (জুয়েল)
সলুয়া বাজার, চৌগাছা, যশোর।
গতানুগতিক চাকরীর বাইরে কোন কিছু করার ইচ্ছাটা ছোটবেলা থেকেই ছিল। আর তাই প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই মূল লক্ষ্য হিসাবে স্থির করেছি আমি। আউটসোর্সিংয়ে এসে আমার কাছে দুটি সমস্যা সবচেয়ে বেশি বলে মনে হয় তা হলো- অর্থ উত্তোলন এবং নিম্ন গতির ইন্টারনেট। পেপাল চালু না থাকায় বাংলাদেশী ফ্রিলান্সারদেরকে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি খরচ করতে হয়, যা হতাশা ব্যাঞ্জক। যেমন ধরুন যদি আমি vWorker-এ ১০ ডলার মূল্যমানের কোন প্রজেক্টের কাজ করি সেক্ষেত্রে vWorker ৩ ডলার ফি বাবদ কেটে রাখে অর্থাৎ আমি পাই ৭ ডলার আবার পেওনার মাস্টারকার্ডের সাহায্যে অর্থ উত্তোলনের সময় ৩% ফি দিতে হয়। সবকিছু মিলে বাংলাদেশী ফ্রিলান্সারদের একটা বড় ধরনের খরচ হয় অর্থ উত্তোলনের জন্য। এক্ষেত্রে পেপাল চালু থাকলে অনেক কম খরচে এবং সহজে আমরা আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে আনতে পারি। পাশাপাশি উচ্চ মূল্যের নিম্ম গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট আমাদের দেশের আউটসোর্সিং সেক্টরের আরেকটি অন্তরায়। আমাদের প্রতিবেশী উন্নয়নশীল দেশগুলো আমাদের দেশের চেয়ে অনেক কম মূল্যে আমাদের চেয়ে অনেক গুন বেশি গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ সমস্ত ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ নিলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ফ্রিলান্সাররা বেকারত্ব হ্রাসকরণের মাধ্যমে দেশের ন্যুজ অর্থনীতিকে অনেকাংশে গতিশীল করতে পারে বলে আমি মনেকরি। বর্তমানে আমি আলফা ডিজিটাল টিম-এর সাথে কর্মরত। আমাদের দক্ষ টিম মেম্বরদের ওডেস্ক মার্কেটপ্লেসের অধিকাংশ ক্যাটাগরির প্রজেক্ট সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আলফা ডিজিটাল টিমের স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশিদ odesk-bangladesh@googlegroups.com এর মাধ্যমে ফ্রিলান্সিং বিষয়ক মত বিনিময় করেন যা বাংলাদেশী ফ্রিলান্সারদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।

মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী, কম্পিউটার জগৎ এবং মামুনুর রশিদ – ফ্রিলান্সিং বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে যে অসামান্য অবদান রাখছেন, আমরা বাংলাদেশী ফ্রিলান্সাররা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আসুন, দেশের শিক্ষিত বেকার সমাজকে ফ্রিলান্সিং-এ উদ্বুদ্ধ করে বাংলাদেশকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করি।

রবিউল ইসলাম অনিক
শিরোমনি, খুলনা
যতদিন আমাদের তিনটা সমস্যা সমাধান না হবে আমাদের দেশ এর ফ্রিল্যান্সারদের আগ্রগতি আশা করা যায়না। সমস্যাগুলো হল, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং ব্যাংক। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু নজর দিত তাহলে আমরা আর এগিয়ে যেতো।



পরিশেষে একথা বলা যায়, আউটসোর্সিং কাজে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। এক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে দেশে পেপাল সার্ভিসকে চালু করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রদান, ইন্টারনেটকে আরো সহজলভ্য, স্বাশ্রয়ী এবং দ্রুতগতির করা। নতুন ফ্রিল্যান্সারদেরকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি নীতিমালা গঠন করতে হবে। পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা উচিৎ। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে এই সুযোগে কেউ যাতে নতুন ফ্রিল্যান্সারদেরকে হয়রানি না করে এবং তাদেরকে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করতে না পারে। আর ফ্রিল্যান্সারদেরও উচিৎ অযথা সেমিনার আর ওয়ার্কশপের পেছনে না ছুটে সময় নিয়ে পর্যাপ্ত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে তোলা।

লেখক – মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী
বিঃদ্রঃ – এই লেখাটি “মাসিক কম্পিউটার জগৎ” ম্যাগাজিনের “ফেব্রুয়ারী ২০১১” সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করূন, অন্যজনকে জানতে দিন

3 Comments so far:

  1. অসাধারন সময়পযোগী একটি জরিপ, যদিও জরিপে অংশ গ্রহনকারীদের সংখ্যা কম, তারপরো যথাপযুক্ত পরিসংখ্যান ও আলোচনা আমদের অনেকখানি সাহায্য করবে।
    মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী ভাই কে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  2. দারুন একটা জরিপ, আপনার সাইটে আগে কেনো যে আসলাম না . . . . .
    যাক এখনো সময় আছে, অনেক কিছু জানলাম, আশা করি আরো অনেক কিছু জানবো !

    ধন্যবাদ ।

  3. নামহীন says:

    good