অডিওজাঙ্গল – এবার মিউজিক তৈরি করে আয়

মিউজিক শুনতে কে না ভালবাসে। অনেকে আবার মিউজিক তৈরি করতে ভালবাসে। কম্পিউটারে মিউজিক তৈরি করার নানা ধরনের সফটওয়্যার রয়েছে। হয়তবা অনেকে শখের বসে কম্পিউটারে মিউজিক তৈরি করে দেখেছেন। তবে কম্পিউটারে মিউজিক তৈরি করে তাকে পেশা হিসেবে নেয়াটা অতটা সহজ বিষয় নয়। কারণ সেই মিউজিক বিক্রি করতে বিভিন্ন ধরনের রেকর্ডিং কোম্পানির কাছে ছোটাছুটি করতে হবে বৈকি। ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন এই কাজটি ঘরে বসে অনায়াসেই করতে পারবেন। এধরনের একটি সাইট হচ্ছে অডিওজাঙ্গল (www.AudioJungle.net)।

অডিওজাঙ্গল হচ্ছে ইন্টারনেটে অডিও কেনাবেচার একটি মার্কেটপ্লেস। এটি তৈরি করেছে এনভাটো (Envato) নামের একটি অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যা নিয়ে এর আগে “কম্পিউটার জগৎ” ম্যাগাজিনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এনভাটোর অন্যান্য সাইটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ThemeForest.net, GraphicRiver.net এবং ActiveDen.net। বর্তমানে এনভাটোতে মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা হচ্ছে ৫ লাখের উপর এবং মোট আইটেমের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার। তারমধ্যে শুধুমাত্র অডিওজাঙ্গলে ২০ হাজারের উপর আইটেম / অডিও রয়েছে। এইসকল অডিওগুলো সাধারণত কোন ওয়েবসাইট, সফটওয়্যার বা কোন গেম এর ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কতগুলো আবার সিনেমার টাইটেল মিউজিক হিসেবে বা কোন প্রতিষ্ঠানের থিম মিউজিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে অডিওজাঙ্গলের অডিওগুলোর রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এনভাটোর যে কোন আইটেম প্রতিবার বিক্রি হলে এর ডেভেলপার বা Author কে ৫০% থেকে ৭০% পর্যন্ত অর্থ প্রদান করা হয়।


এনভাটোর যে কোন একটি সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করে এর সকল সাইটের মেম্বার হওয়া যায়। রেজিষ্ট্রেশন করার পর অডিও বিক্রি করার পূর্বে সাইটের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নিতে হবে এবং একটি কুইজে অংশগ্রহণ করতে হবে। কুইজের প্রশ্নগুলো অত্যন্ত সহজ হয়ে থাকে। অডিওজাঙ্গল সাইটে ৫ টি মূল বিভাগে অডিও আপলোড করে বিক্রি করা যায়, এগুলো হল –

১) Music:
এই বিভাগে কয়েক মিনিটব্যাপী শুধু মিউজিক অথবা ভোকালযুক্ত মিউজিক আপলোড করা যায়। বলা বাহুল্য, মিউজিকের গুণগত মান অবশ্যই উন্নত এবং প্রফেশনাল হতে হবে, অন্যথায় সাইটের কর্তৃপক্ষ এটিকে গ্রহণ করবে না। ভোকালযুক্ত মিউজিক অবশ্যই ইংরেজীতে হতে হবে। এক্ষেত্রে গায়ক বা গায়িকার পরিচিতি যুক্ত করতে হবে এবং সাইটে বিক্রি করতে গায়ক বা গায়িকা থেকে যথাযথ অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা তা জানাতে হবে। মিউজিকগুলো কোন জনপ্রিয় বা কপিরাইটযুক্ত অডিও এর উপর ভিত্তি করে বা মিল রেখে তৈরি করা যাবে না। অথবা কোন ফ্রি লুপ বা স্যাম্পল দিয়ে তৈরি করা যাবে না। সকল অডিও 44.1 kHz এবং 16-Bit স্টেরিও হতে হবে। WAV অথবা MP3 ফরমেটে ফাইল আপলোড করা যাবে। MP3 এর ক্ষেত্রে 320 kbps বিট রেট হতে হবে। ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০ মিনিট হতে হবে। মূল অডিও এর সাথে একটি প্রিভিউ অডিও (MP3 ফরমেটে) আপলোড করতে হবে। প্রিভিউ অডিওটি ক্রেতা কেনার পূর্বে শুনতে পারবে, তবে এর সাথে সাইট কর্তৃক প্রদত্ত একটি ওয়ারমার্ক সাউন্ড ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে যুক্ত করতে হবে।

২) Music Packs:
এই ধরনের বিভাগে এক সাথে সর্বোচ্চ ১০টি মিউজিক ট্র্যাক যুক্ত করে বিক্রি করা যাবে। “মিউজিক” বিভাগে আপনার আপলোড করা কয়েকটি অডিও নিয়ে “মিউজিক প্যাক” তৈরি করতে পারবেন। তবে একটি ট্র্যাককে একাধিক প্যাকে যুক্ত করতে পারবেন না। সবগুলো ট্র্যাকের মূল দৈর্ঘ্য ৩০ মিনিটের বেশি হতে পারবে না। প্রিভিউ অডিওতে সবগুলো ট্র্যাকের অংশবিশেষ যুক্ত করতে হবে।

৩) Sound:
এই বিভাগে গেমের সাউন্ড, কার্টুন সাউন্ড, ইন্টারফেস সাউন্ড, বাটন এবং মেনু সাউন্ড, প্রাকৃতিক সাউন্ড ইত্যাদি তৈরি করে আপলোড করা যায়। সাউন্ডগুলো সাধারণত কয়েক সেকেন্ডেরে একটি অডিও অথবা কয়েকটি সাউন্ডের একটি প্যাক হতে পারে। প্যাকে সর্বোচ্চ ৫০ টি অডিও থাকতে পারে এবং সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের হতে হবে।

৪) Source Files:
এই বিভাগে সাউন্ডের কেবলমাত্র WAV বা MP3 ফাইল আপলোড না করে, যে সফটওয়্যার দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে তার সোর্স ফাইল বিক্রি করা যায়। উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্রেতা এটিকে পরবর্তীতে যাতে নিজের ইচ্ছেমত পরিবর্তন করতে পারে সেই সুযোগ দেয়া। যে সকল সফটওয়্যারের সোর্স ফাইল বিক্রি করা যায় এগুলো হল – Cubase, FL Studio, Logic Pro, Pro Tools, Reason এবং অন্যান্য।

৫) Logo & Idents:
এই বিভাগে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতিমূলক মিউজিক হিসেবে অডিও বিক্রি করা যায়। এক্ষেত্রে ৩০ সেকেন্ডের একটি ট্র্যাক অথবা সর্বোচ্চ ১০ টি ট্র্যাকের একটি প্যাক তৈরি করে আপলোড করা যায়।

প্রফেশনাল মিউজিক তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল অডিও ওয়ার্কস্টেশন বা DAW পাওয়া যায়। DAW বলতে শুধুমাত্র কম্পিউটারের সফটওয়্যারকেই বোঝায় না, এটি হচ্ছে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, কম্পিউটার সফটওয়্যার, অডিও ইন্টারফেস এবং পেরিফেরালের একটি সমন্বিতরূপ। জনপ্রিয় কয়েকটি ডিজিটাল অডিও ওয়ার্কস্টেশন এপ্লিকেশন হচ্ছে – Ableton Live, ACID Pro, Ardour, Audition, Cubase, Digital Performer, FL Studio, Koblo, Logic Pro, Nuendo, Pro Tools, Reason, SONAR । এগুলোর কতগুলো বিনামূল্যে আর কতগুলো কিনে ব্যবহার করতে হয়।

শেখার জন্য Audiotuts+ নামে এনভাটোর একটি টিউটোরিয়াল ব্লগ সাইট রয়েছে (http://audio.tutsplus.com)। এই সাইটে অডিও তৈরির বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যারের টিউটোরিয়াল রয়েছে। সাথে অডিও রেকর্ড, তৈরি এবং ট্র্যাক মিক্স করার বিভিন্ন ধরনের টেকনিক শেখানো হয়, যা দিয়ে একজন নতুন ব্যবহারকারী ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে উঠতে পারবে।

লেখক – মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী
বিঃদ্রঃ – এই লেখাটি “মাসিক কম্পিউটার জগৎ” ম্যাগাজিনের “নভেম্বর ২০১০” সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

সার্চ করুন

web hosting

জনপ্রিয় লেখাসমূহ

Find us on facebook

Scroll to top